অনুসন্ধান    

Logo

 
Logo

প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ সম্পর্কে

শিক্ষাক্ষেত্রে অবদানের জন্য সম্প্রতি জাতিসংঘের 'ইয়ুথ কারেজ অ্যাওয়ার্ড ফর এডুকেশন'- ভূষিত হয়েছে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার বিন্যাকুড়ী গ্রামের কেশব রায়। প্রত্যন্ত গ্রামের অভাবী এই কিশোর নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি এলাকার ঝরেপড়া শিক্ষার্থীদেরও করেছে স্কুলমুখী, অবদান রেখেছে বল্যবিবাহ বন্ধ করতে'| অভাবী পরিবারের এক অজপাড়াগাঁয়ের ছেলে কেশব। বয়স মাত্র ১৮ বছর। কলেজে লেখাপড়ার পাশাপাশি সে শৈশব থেকে সামাজিক কাজ করে আসছে। অভিনয়, গান ও নাটকের মাধ্যমে সে মানুষকে সচেতন করার কাজটি করে আসছে কয়েক বছর ধরে। এলাকায় সে এখন শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করছে। এরই মধ্যে সে ভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতাও অর্জন করেছে। এসব কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সে পেয়েছে জাতিসংঘের 'ইয়ুথ কারেজ অ্যাওয়ার্ড ফর এডুকেশন'। এ খবরে শুনে ভীষণ আনন্দিত সে ও তার পরিবারের লোকজনসহ গোটা এলাকার মানুষ। ১২ জুলাই নিউইয়র্কে জাতিসংঘ ভবনে মালালা দিবসে বিশেষ কর্মসূচিতে তার এই পুরস্কার জাতিসংঘের শিক্ষাবিষয়ক দূত ও সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন তুলে দেন প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল ইউএসএ প্রতিনিধির হাতে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন। কেশবের বাড়ি নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার কৈমারী ইউনিয়নের বিন্যাকুড়ী গ্রামে। দুই ভাইয়ের মধ্যে সে বড়। তারা দু'জনেই এখন শিক্ষার্থী। ছোট ভাই রঞ্জিত চন্দ্র রায় জলঢাকা বিএম কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র এবং কেশবও একই প্রতিষ্ঠানের দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছে। বাবা অজিন্দ্র বর্মণ। দিনমজুরি করে এবং নিজের ভিটেসহ এক বিঘার মতো যে জমি আছে সেটুকুই তিনি চাষাবাদ করেন। সেখান থেকে জোগান দেন দুই সন্তানের পড়ার খরচ। মা গৃহিণী রঞ্জিতা রানি রায়। টাকা-পয়সার অভাবে দু'একবার কেশবের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। বাধ্য সে অন্যত্র কাজ নেয়। সপ্তম শ্রেণীতে ওঠার পর কেশবের বাবার পক্ষে লেখাপড়ার খরচ বহন করা অসম্ভব হয়ে ওঠে। সে সময় কেশব লেখাপড়া ছেড়ে দিয়ে তার স্কুলের পাশে একটি ভাঙাড়ি দোকানে কাজ নেয়। এতে তার মাসে আসে ৩০০ টাকা। কিন্তু কেশব পড়াশোনা ছেড়ে মানসিকভাবে ভীষণ ভেঙে পড়ে। তার মন পড়ে থাকে স্কুলে। তার দোকানের পাশ দিয়ে যখন অন্য শিক্ষার্থীরা স্কুলে যায় তখন সে আনমনা হয়ে পড়ে। ওই দোকানের কাজে সে আর মন বসাতে পারে না। কাজ ঠিকমতো না করায় একবার তার কিছু বেতনও কেটে নেওয়া হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে আর লেখাপড়া ছেড়ে বেশি দিন থাকতে পারেনি। আবার টাকা জোগাড় করে স্কুলে ভর্তি হয়। এজন্য সে মাঝেমধ্যে প্রাইভেটও পড়াত। আরও একবার স্বল্প সময়ের জন্য তার লেখাপড়ায় ছেদ পড়েছিল। এভাবেই অনেক চড়াই-উৎরাইয়ের পর কেশব এখন স্কুল গণ্ডি পেরিয়ে কলেজে পা দিয়েছে। তার ইচ্ছা লেখাপড়া শিখে মানব সমাজ উন্নয়নে কাজ করবে। তার মতে, একজন মানুষকে সচেতন করতে পারলে আর তার অভাব থাকবে না। তার মতো করে সে তার সমস্যা সমাধান করে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাবে। কেশব একে একে বেশ ক'জনের বাসায় গিয়ে ঝরেপড়া শিশুদের স্কুলে ভর্তি করে। সে জানায়, তার বাড়ির পাশে রিকশাভ্যান চালক বাগান চন্দ্রের ছেলে প্রদেশ চন্দ্র ও দিনমজুর সুরিশ চন্দ্র রায়ের ছেলে বিধান চন্দ্র রায়ের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। সে ওই দুই ছাত্রের বাবা ও মাকে বুঝিয়ে পুনরায় স্কুলে ভর্তি করে। তারা এখন একটি উন্নয়ন সংস্থা পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছে। প্রদেশ চন্দ্র এখন নবম ও বিধান চন্দ্র রায় ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র। একইভাবে কেশব লেখাপড়ার ফাঁকে শিশু ফোরামের মাধ্যমে বাল্যবিয়ে বন্ধের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। সে ওই এলাকার এখন পর্যন্ত ২৫ শিশুর বাল্যবিয়ে বন্ধসহ অর্ধশত ঝরেপড়া শিশুকে স্কুলমুখী করে তুলেছে। এসব কাজে কেশবকে সহায়তা দেয় উন্নয়ন সংস্থা 'প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল', স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কোহিনুজ্জামান লিটন ও একটি হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মহসীন আলীসহ এলাকার আরও অনেকে। কেশব এখন উপজেলা শিশু ফোরামের সভাপতি। এই কমিটির সদস্য সংখ্যা ২৬ জন। শিশু দলের পাঠচক্রের আসর বসে সপ্তাহে একদিন। এই ফোরামের ছোট একটি অফিসও রয়েছে। বিন্যাকুড়ি বিসি সরকার হাইস্কুলের একটি কক্ষ শিশু ফোরামের অফিস হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি দিয়েছেন ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মহসীন আলী। মহসীন আলী বলেন, তারা ভালো কাজ করছে, তাই একটু সহযোগিতা করছি মাত্র। প্রধান শিক্ষক জানান, তাদের পাঠচক্রের আসরে তিনিও মাঝেমধ্যে অংশ নেন। প্রতি শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত শিশু ফোরামের বসে পাঠচক্রের আসর। সেখানে মূলত ৮টি বিষয় চর্চা করা হয়। সেসব হচ্ছে_ ১. ইংরেজি ও বাংলা শব্দ শেখা, ২. কৌতুক বলা, ৩. পাঠ্যসূচি থেকে বিষয়ভিত্তিক পড়াশোনা করা, ৪. নিজেদের সমস্যা বলা ও সমাধান বের করা, ৫.সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ৬. সাধারণ জ্ঞান, কুইজ ও উপস্থিত বক্তৃতা, ৭. গল্প শোনা ও বলা এবং ৮ কবিতা আবৃত্তি ও কবিতা লেখা। এ ছাড়া এই ফোরামের মাধ্যমে স্থানীয় সমস্যাভিত্তিক নাটক লিখে তা মঞ্চায়ন করা হয়। উদ্দেশ্য, মানুষকে সচেতন করা। তবে তাদের শর্ত হচ্ছে লেখাপড়া বাদ দিয়ে কোনো কিছুই নয়। তাদের রয়েছে ছোট্ট একটি লাইব্রেরিও। সেখানে রয়েছে বিশ্ব শিশু কোষসহ বিভিন্ন কবি, সাহিত্যিক ও মনীষীদের দেড়শ' বই। এসব কাজ করতে গিয়ে কেশব শুরুতে বেশ বাধার সম্মুখীন হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, এলাকার ছোট ছেলেমেয়েদের পাকিয়ে তুলছে। এর পেছনে কারণ ছিল, এলাকায় অভাবী পরিবারের সন্তানরা স্কুলমুখী হচ্ছে কেন। তবে বর্তমানে সেসব বাধা আর নেই বলে জানায় কেশব। বরং এখন অনেকে তাকে সহায়তা দিচ্ছে বলেও জানায় সে। জলঢাকায় কৈমারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কোহিনুজ্জামান লিটন ও প্রধান শিক্ষক মহসীন আলীসহ অনেকে কেশবের সঙ্গে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ ও ঝরেপড়া শিশুদের স্কুলমুখী করতে এগিয়ে এসেছেন। কেশব তাদের সহযোগিতা নিয়ে এসব কাজ এখন সফলতার সঙ্গে চালিয়ে যাচ্ছে। আর এ সফলতার পেছনে রয়েছে তার শিশু ফোরাম ও প্ল্যান বাংলাদেশ, জলঢাকা ইউনিট। বর্তমানে তারা কাজ করছে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ ও ঝরেপড়া রোধের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহার, জন্মনিবন্ধন, গুণগত প্রাথমিক শিক্ষা, গর্ভকালীন চেকআপ ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সন্তান প্রসবকরণে। সমাজ সচেতনায় সাহসী ভূমিকা রাখার এবং নিজেকে কেশব আরও সমৃদ্ধ করতে অভিজ্ঞতা আদান-প্রদানের উদ্দেশ্যে ইতিমধ্যে ভিন দেশ সফর করেছে। ২০১২ সালে সে শ্রীলংকায় শিশু সমাবেশে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে এবং চলতি বছর ২০১৩ সালে থাইল্যান্ডে শিশু সুরক্ষা প্রশিক্ষণে অংশ নেয়। বর্তমানে সে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন ফোরামে শিশু অধিকার ও শিশু সুরক্ষা বিষয়ে সার্বক্ষণিক কাজ করে চলছে।

শিক্ষাক্ষেত্রে অবদানের জন্য সম্প্রতি জাতিসংঘের 'ইয়ুথ কারেজ অ্যাওয়ার্ড ফর এডুকেশন'- ভূষিত হয়েছে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার বিন্যাকুড়ী গ্রামের কেশব রায়। প্রত্যন্ত গ্রামের অভাবী এই কিশোর নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি এলাকার ঝরেপড়া শিক্ষার্থীদেরও
করেছে স্কুলমুখী, অবদান রেখেছে বল্যবিবাহ বন্ধ করতে'|
অভাবী পরিবারের এক অজপাড়াগাঁয়ের ছেলে কেশব। বয়স মাত্র ১৮ বছর। কলেজে লেখাপড়ার পাশাপাশি সে শৈশব থেকে সামাজিক কাজ করে আসছে। অভিনয়, গান ও নাটকের মাধ্যমে সে মানুষকে সচেতন করার কাজটি করে আসছে কয়েক বছর ধরে। এলাকায় সে এখন শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করছে। এরই মধ্যে সে ভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতাও অর্জন করেছে। এসব কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সে পেয়েছে জাতিসংঘের 'ইয়ুথ কারেজ অ্যাওয়ার্ড ফর এডুকেশন'। এ খবরে শুনে ভীষণ আনন্দিত সে ও তার পরিবারের লোকজনসহ গোটা এলাকার মানুষ। ১২ জুলাই নিউইয়র্কে জাতিসংঘ ভবনে মালালা দিবসে বিশেষ কর্মসূচিতে তার এই পুরস্কার জাতিসংঘের শিক্ষাবিষয়ক দূত ও সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন তুলে দেন প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল ইউএসএ প্রতিনিধির হাতে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন।
কেশবের বাড়ি নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার কৈমারী ইউনিয়নের বিন্যাকুড়ী গ্রামে। দুই ভাইয়ের মধ্যে সে বড়। তারা দু'জনেই এখন শিক্ষার্থী। ছোট ভাই রঞ্জিত চন্দ্র রায় জলঢাকা বিএম কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র এবং কেশবও একই প্রতিষ্ঠানের দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছে। বাবা অজিন্দ্র বর্মণ। দিনমজুরি করে এবং নিজের ভিটেসহ এক বিঘার মতো যে জমি আছে সেটুকুই তিনি চাষাবাদ করেন। সেখান থেকে জোগান দেন দুই সন্তানের পড়ার খরচ। মা গৃহিণী রঞ্জিতা রানি রায়।
টাকা-পয়সার অভাবে দু'একবার কেশবের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। বাধ্য সে অন্যত্র কাজ নেয়। সপ্তম শ্রেণীতে ওঠার পর কেশবের বাবার পক্ষে লেখাপড়ার খরচ বহন করা অসম্ভব হয়ে ওঠে। সে সময় কেশব লেখাপড়া ছেড়ে দিয়ে তার স্কুলের পাশে একটি ভাঙাড়ি দোকানে কাজ নেয়। এতে তার মাসে আসে ৩০০ টাকা। কিন্তু কেশব পড়াশোনা ছেড়ে মানসিকভাবে ভীষণ ভেঙে পড়ে। তার মন পড়ে থাকে স্কুলে। তার দোকানের পাশ দিয়ে যখন অন্য শিক্ষার্থীরা স্কুলে যায় তখন সে আনমনা হয়ে পড়ে। ওই দোকানের কাজে সে আর মন বসাতে পারে না। কাজ ঠিকমতো না করায় একবার তার কিছু বেতনও কেটে নেওয়া হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে আর লেখাপড়া ছেড়ে বেশি দিন থাকতে পারেনি। আবার টাকা জোগাড় করে স্কুলে ভর্তি হয়। এজন্য সে মাঝেমধ্যে প্রাইভেটও পড়াত। আরও একবার স্বল্প সময়ের জন্য তার লেখাপড়ায় ছেদ পড়েছিল। এভাবেই অনেক চড়াই-উৎরাইয়ের পর কেশব এখন স্কুল গণ্ডি পেরিয়ে কলেজে পা দিয়েছে। তার ইচ্ছা লেখাপড়া শিখে মানব সমাজ উন্নয়নে কাজ করবে। তার মতে, একজন মানুষকে সচেতন করতে পারলে আর তার অভাব থাকবে না। তার মতো করে সে তার সমস্যা সমাধান করে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাবে।
কেশব একে একে বেশ ক'জনের বাসায় গিয়ে ঝরেপড়া শিশুদের স্কুলে ভর্তি করে। সে জানায়, তার বাড়ির পাশে রিকশাভ্যান চালক বাগান চন্দ্রের ছেলে প্রদেশ চন্দ্র ও দিনমজুর সুরিশ চন্দ্র রায়ের ছেলে বিধান চন্দ্র রায়ের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। সে ওই দুই ছাত্রের বাবা ও মাকে বুঝিয়ে পুনরায় স্কুলে ভর্তি করে। তারা এখন একটি উন্নয়ন সংস্থা পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছে। প্রদেশ চন্দ্র এখন নবম ও বিধান চন্দ্র রায় ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র।
একইভাবে কেশব লেখাপড়ার ফাঁকে শিশু ফোরামের মাধ্যমে বাল্যবিয়ে বন্ধের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। সে ওই এলাকার এখন পর্যন্ত ২৫ শিশুর বাল্যবিয়ে বন্ধসহ অর্ধশত ঝরেপড়া শিশুকে স্কুলমুখী করে তুলেছে। এসব কাজে কেশবকে সহায়তা দেয় উন্নয়ন সংস্থা 'প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল', স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কোহিনুজ্জামান লিটন ও একটি হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মহসীন আলীসহ এলাকার আরও অনেকে।
কেশব এখন উপজেলা শিশু ফোরামের সভাপতি। এই কমিটির সদস্য সংখ্যা ২৬ জন। শিশু দলের পাঠচক্রের আসর বসে সপ্তাহে একদিন। এই ফোরামের ছোট একটি অফিসও রয়েছে। বিন্যাকুড়ি বিসি সরকার হাইস্কুলের একটি কক্ষ শিশু ফোরামের অফিস হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি দিয়েছেন ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মহসীন আলী। মহসীন আলী বলেন, তারা ভালো কাজ করছে, তাই একটু সহযোগিতা করছি মাত্র। প্রধান শিক্ষক জানান, তাদের পাঠচক্রের আসরে তিনিও মাঝেমধ্যে অংশ নেন।
প্রতি শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত শিশু ফোরামের বসে পাঠচক্রের আসর। সেখানে মূলত ৮টি বিষয় চর্চা করা হয়। সেসব হচ্ছে_ ১. ইংরেজি ও বাংলা শব্দ শেখা, ২. কৌতুক বলা, ৩. পাঠ্যসূচি থেকে বিষয়ভিত্তিক পড়াশোনা করা, ৪. নিজেদের সমস্যা বলা ও সমাধান বের করা, ৫.সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ৬. সাধারণ জ্ঞান, কুইজ ও উপস্থিত বক্তৃতা, ৭. গল্প শোনা ও বলা এবং ৮ কবিতা আবৃত্তি ও কবিতা লেখা। এ ছাড়া এই ফোরামের মাধ্যমে স্থানীয় সমস্যাভিত্তিক নাটক লিখে তা মঞ্চায়ন করা হয়। উদ্দেশ্য, মানুষকে সচেতন করা। তবে তাদের শর্ত হচ্ছে লেখাপড়া বাদ দিয়ে কোনো কিছুই নয়। তাদের রয়েছে ছোট্ট একটি লাইব্রেরিও। সেখানে রয়েছে বিশ্ব শিশু কোষসহ বিভিন্ন কবি, সাহিত্যিক ও মনীষীদের দেড়শ' বই। এসব কাজ করতে গিয়ে কেশব শুরুতে বেশ বাধার সম্মুখীন হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, এলাকার ছোট ছেলেমেয়েদের পাকিয়ে তুলছে। এর পেছনে কারণ ছিল, এলাকায় অভাবী পরিবারের সন্তানরা স্কুলমুখী হচ্ছে কেন। তবে বর্তমানে সেসব বাধা আর নেই বলে জানায় কেশব। বরং এখন অনেকে তাকে সহায়তা দিচ্ছে বলেও জানায় সে।
জলঢাকায় কৈমারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কোহিনুজ্জামান লিটন ও প্রধান শিক্ষক মহসীন আলীসহ অনেকে কেশবের সঙ্গে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ ও ঝরেপড়া শিশুদের স্কুলমুখী করতে এগিয়ে এসেছেন। কেশব তাদের সহযোগিতা নিয়ে এসব কাজ এখন সফলতার সঙ্গে চালিয়ে যাচ্ছে। আর এ সফলতার পেছনে রয়েছে তার শিশু ফোরাম ও প্ল্যান বাংলাদেশ, জলঢাকা ইউনিট। বর্তমানে তারা কাজ করছে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ ও ঝরেপড়া রোধের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহার, জন্মনিবন্ধন, গুণগত প্রাথমিক শিক্ষা, গর্ভকালীন চেকআপ ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সন্তান প্রসবকরণে।
সমাজ সচেতনায় সাহসী ভূমিকা রাখার এবং নিজেকে কেশব আরও সমৃদ্ধ করতে অভিজ্ঞতা আদান-প্রদানের উদ্দেশ্যে ইতিমধ্যে ভিন দেশ সফর করেছে। ২০১২ সালে সে শ্রীলংকায় শিশু সমাবেশে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে এবং চলতি বছর ২০১৩ সালে থাইল্যান্ডে শিশু সুরক্ষা প্রশিক্ষণে অংশ নেয়। বর্তমানে সে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন ফোরামে শিশু অধিকার ও শিশু সুরক্ষা বিষয়ে সার্বক্ষণিক কাজ করে চলছে। 


 

Contact 1:
মোঃ শাহীনুর আলম
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক/শিক্ষা ও আই.সি.টি.)
ফোনঃ ০১৭৩৩৩৯০৬৪৬
adcnilphamari@mopa.gov.bd

Contact 2:
কাবেরী জালাল
সহকারী কমিশনার (এনজিও শাখা)
ফোনঃ ০৫৫১৬১২৮০
acngonilphamari@gmail.com

Contact 3:
মোঃ ইস্রাফিল আলম (এনজিও শাখা) অফিস সহকারী
ফোনঃ ০১৭৩৩৩৯০৬৫৬

খ ম রাশেদুল আরেফীন
এনজিও সমন্বয়কারী, নীলফামারী।

প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর
আরডি আরএস বাংলাদেশ, নীলফামারী।
মোবাইল নং- ০১৭৩০৩২৮০৪৪